Dhaka ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কৌশলে ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩ Time View

পূর্ণাঙ্গ হামলা নয়-সুপরিকল্পিত হামলায় ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যার মাধ্যমে বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ সরকার পরিবর্তন পরিস্থিতি তৈরির ফন্দি আঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর মধ্যে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট সামরিক হামলা অন্যতম। যাতে দেশটির ভেতরে বিক্ষোভকারীরা উৎসাহ পায় এবং ‘রেজিম চেঞ্জ’ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক সূত্রে বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সে পরিকল্পনা ফাঁস করেছে রয়টার্স। একই দিনে সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, ইরানে বড় ধরনের হামলার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নিয়ে চলমান প্রাথমিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ট্রাম্প প্রশাসন এখন কঠোর সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।

একই সময়ে ইসরাইলি ও আরব কর্মকর্তারা বলেছেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব নয়।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ‘রেজিম চেঞ্জ বা শাসন পরিবর্তনের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন।

মার্কিন সূত্রগুলোর একটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা আরও বড় ধরনের হামলার বিকল্প নিয়েও আলোচনা করছেন। এই হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম, অথবা ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম। অন্য মার্কিন সূত্রটি জানিয়েছেন, সামরিক পথে এগোবেন কি না-এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করা সম্ভব নয়-যদি সেটিই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হয়।

তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিই শাসন পরিবর্তন করতে চান, তাহলে স্থলবাহিনী পাঠাতে হবে।’

তার ভাষায়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকেও হত্যা করে, তাহলেও ‘তার জায়গায় নতুন নেতা এসে দাঁড়াবেন।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, শুধু বাইরের চাপ নয়, সংগঠিত অভ্যন্তরীণ বিরোধী শক্তির সমন্বয় ছাড়া ইরানের রাজনৈতিক গতিপথ বদলানো সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, চলমান অস্থিরতায় ইরানের নেতৃত্ব কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবে গভীর অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও তারা এখনো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন কে এই মুজতবা খামেনি?

যে কৌশলে ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ০৭:৫১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

পূর্ণাঙ্গ হামলা নয়-সুপরিকল্পিত হামলায় ইরানের সরকার পতন ঘটাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যার মাধ্যমে বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ‘রেজিম চেঞ্জ’ সরকার পরিবর্তন পরিস্থিতি তৈরির ফন্দি আঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর মধ্যে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট সামরিক হামলা অন্যতম। যাতে দেশটির ভেতরে বিক্ষোভকারীরা উৎসাহ পায় এবং ‘রেজিম চেঞ্জ’ হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক সূত্রে বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সে পরিকল্পনা ফাঁস করেছে রয়টার্স। একই দিনে সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, ইরানে বড় ধরনের হামলার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন নিয়ে চলমান প্রাথমিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ট্রাম্প প্রশাসন এখন কঠোর সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।

একই সময়ে ইসরাইলি ও আরব কর্মকর্তারা বলেছেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা সম্ভব নয়।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ‘রেজিম চেঞ্জ বা শাসন পরিবর্তনের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন।

মার্কিন সূত্রগুলোর একটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা আরও বড় ধরনের হামলার বিকল্প নিয়েও আলোচনা করছেন। এই হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম, অথবা ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম। অন্য মার্কিন সূত্রটি জানিয়েছেন, সামরিক পথে এগোবেন কি না-এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করা সম্ভব নয়-যদি সেটিই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হয়।

তিনি বলেন, ‘যদি সত্যিই শাসন পরিবর্তন করতে চান, তাহলে স্থলবাহিনী পাঠাতে হবে।’

তার ভাষায়, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র যদি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকেও হত্যা করে, তাহলেও ‘তার জায়গায় নতুন নেতা এসে দাঁড়াবেন।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, শুধু বাইরের চাপ নয়, সংগঠিত অভ্যন্তরীণ বিরোধী শক্তির সমন্বয় ছাড়া ইরানের রাজনৈতিক গতিপথ বদলানো সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, চলমান অস্থিরতায় ইরানের নেতৃত্ব কিছুটা দুর্বল হয়েছে, তবে গভীর অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও তারা এখনো নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।