Dhaka ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ, নীরবতা ভেঙে যা বলল আয়োজক শ্রীলঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ Time View

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে চলমান বিতর্ক প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের শুরুতে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে ভারতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে নয়—এই যুক্তিতে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনার পরপরই এ আবেদন আসে।

আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি। বাংলাদেশের জায়গায় বাছাইপর্বে ব্যর্থ দলগুলোর মধ্যে শীর্ষ র্যাঙ্কধারী স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের কথা ভাবতে পারে অথবা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এদিকে পুরো পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নীরব ছিল শ্রীলঙ্কা। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় কলম্বোর নীরবতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সেক্রেটারি বান্দুলা ডিসানায়েকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না তার দেশ। তিনি বলেন, ‘ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যেসব বিরোধ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানে আছি। এরা সবাই আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ।’

তবে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি অনুরোধ জানানো হয়, শ্রীলঙ্কা যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলছে। সে কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, যার মধ্যে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটিও রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে এএফপিকে জানান, টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন কে এই মুজতবা খামেনি?

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ, নীরবতা ভেঙে যা বলল আয়োজক শ্রীলঙ্কা

Update Time : ০৫:৪৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে চলমান বিতর্ক প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের শুরুতে কলকাতা ও মুম্বাইয়ে চারটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। তবে ভারতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে নয়—এই যুক্তিতে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনার পরপরই এ আবেদন আসে।

আইসিসি বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয় আইসিসি। বাংলাদেশের জায়গায় বাছাইপর্বে ব্যর্থ দলগুলোর মধ্যে শীর্ষ র্যাঙ্কধারী স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ঘটনার পর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের কথা ভাবতে পারে অথবা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এদিকে পুরো পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন নীরব ছিল শ্রীলঙ্কা। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টুর্নামেন্টের আয়োজক হওয়ায় কলম্বোর নীরবতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সেক্রেটারি বান্দুলা ডিসানায়েকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তে চায় না তার দেশ। তিনি বলেন, ‘ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে যেসব বিরোধ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানে আছি। এরা সবাই আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ।’

তবে তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি অনুরোধ জানানো হয়, শ্রীলঙ্কা যেকোনো দেশের জন্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলছে। সে কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, যার মধ্যে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটিও রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে এএফপিকে জানান, টুর্নামেন্টটি নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।